সতীশচন্দ্র সামন্ত | Satish Chandra Samanta | सतीश चन्द्र समन्ता (১৫.১২.১৯০০-৪.৬.১৯৮৩)


Satish Chandra Samanta was an Indian independence movement activist and a member of the Lok Sabha from 1952–77. At the age of 15 he was influenced by his guru, Swami Prajnanananda Saraswati and adopted the life of Brahmacharya and took up a life of serving the people. He quit Bengal Engineering College (then an affiliate of the University of Calcutta) in his second year of study in order to fight for freedom of India from the clutches of the British.


সতীশচন্দ্র সামন্ত ১৯০০ খ্রিস্টাব্দের ১৫ ডিসেম্বর পূর্ব মেদিনীপুর জেলার মহিষাদল থানা'র গোপালপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। পিতার নাম ত্রৈলোক্যনাথ সামন্ত এবং মাতা কিশোরী দেবী।

হপ্রাথমিক শিক্ষা মহিষাদলের রাজ হাইস্কুলে। মহিষাদলের পাঠ শেষ করে ভর্তি হন কলকাতার বঙ্গবাসী কলেজে। বঙ্গবাসী কলেজের পর ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার জন্য ভর্তি হন বেঙ্গল টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউটে (বর্তমানে শিবপুর বেঙ্গল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ)।

স্কুলে ছাত্রাবস্থায় যুগান্তর দলের অন্যতম প্রবর্তক বিপ্লবী সন্ন্যাসী স্বামী প্রজ্ঞানানন্দ (তখন মহিষাদলে অন্তরীণ ১৯১৬-'১৯),সতীশচন্দ্র মুখোপাধ্যায় ও আদর্শ শিক্ষাব্রতী হরিপদ ঘোষাল প্রভৃতি ব্যাক্তিত্বের সান্নিধ্যে এসে দেশপ্রেমের মন্ত্রে দীক্ষালাভ করেন। অসহযোগ আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ায় নিজেকে আর আটকে রাখতে না পেরে ইঞ্জিনিয়ারিং পড়া ছেড়ে দিয়ে (১৯২১) অসহযোগ আন্দোলনে যোগদান করেন এবং মহিষাদল থানায় নেতৃত্ব দেন।

সতীশচন্দ্র সামন্ত | Satish Chandra Samanta | सतीश चन्द्र समन्ता

২০১৯ সালের ১৫ ডিসেম্বর মিডনাপুর ডট ইন (midnapore.in)-এর সদস্যরা সর্বাধিনায়ক সতীশচন্দ্র সামন্তে'র জন্মদিন পালন করছেন মেদিনীপুর শহরের ক্ষুদিরাম মোড়ে (LIC চক)


১৯২২ ও ১৯২৪ সালে মহিষাদল থানা কংগ্রেসের সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯২৫ থেকে ১৯৩০ সল্ পর্যন্ত কাকুড়দহ গুণধর জাতীয় বিদ্যালয়ে ও নিমতৌড়ী দেশবন্ধু বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৩১ থেকে ১৯৩৮ সাল পর্যন্ত তমলুক ও পাঁশকুড়া থানা কংগ্রেসের সম্পাদক ছিলেন। এরপর তমলুক মহকুমা কংগ্রেসের সভাপতির দায়িত্ব নিয়ে ভারতছাড়ো আন্দোলনে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করেন। গড়ে তোলেন 'তাম্রলিপ্ত জাতীয় সরকার' - তিনিই হন প্রথম সর্বধিনায়ক। বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য যে তাঁর অসামান্য দক্ষতায় গঠিত এই সরকার সারা দেশের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী জাতীয় সরকার। ১৭ই ডিসেম্বর ১৯৪২ থেকে পরিচালিত এই সরকার গান্ধীজীর উপস্থিতিতে ও নির্দেশে ১৯৪৪ সালের ১ সেপ্টেম্বর এই সরকার প্রত্যাহৃত হয়।

সতীশচন্দ্র সামন্ত | Satish Chandra Samanta | सतीश चन्द्र समन्ता

২০২০ সালের ৪ জুন মিডনাপুর ডট ইন -এর সদস্যরা সর্বাধিনায়ক সতীশচন্দ্র সামন্তে'র তিরোধান দিবস পালন করছেন


স্বাধীনতা আন্দোলনে বিভিন্ন সময়ে ৬ বারে মোট সাত বছর কারাদণ্ড ভোগ করেন। ভারতবর্ষ স্বাধীন হওয়ার পর গণপরিষদ ও অস্থায়ী পার্লামেন্টের সদস্য মনোনীত হন। নির্বাচনের পরে দীর্ঘদিন তমলুকের সাংসদ রূপে পার্লামেন্টের বহু কমিটি ও কমিশনের দায়িত্ব পালন করেছেন।

সতীশচন্দ্র সামন্ত | Satish Chandra Samanta | सतीश चन्द्र समन्ता

২০০১ সালে সতীশচন্দ্র সামন্ত'র নামে প্রকাশিত ভারতীয় ডাক টিকিট (Satish Chandra Samanta on a 2001 stamp of India)।


ভারতের হয়ে বহুবার বিশ্বের নানা দেশে প্রতিনিধিত্ব করেছেন। আজকের হলদিয়া তাঁরই মানসকন্যা। আধুনিক তমলুকের রূপকারও তিনিই। অকৃতদার, সরল, অনাড়ম্বর সর্বাধিনায়ক সতীশচন্দ্র সামন্ত ১৯৮৩ সালের ৪ জুন অমরত্ব লাভ করেন।

অরিন্দম ভৌমিক।

midnapore.in


তথ্যসূত্র :-

১) সর্বাধিনায়ক (প্রকাশকঃ তাম্রলিপ্ত স্বাধীনতা সংগ্রাম ইতিহাস কমিটি)। ।

২) GRAMDAL: TAMRALIPTA NATIONAL GOV.(BANGA BHUSAN BHAKTA)।

৩) স্বাধীনতা সংগ্রামে মেদিনীপুর (তিন খন্ডে প্রকাশিত)।

৪) স্বাধীনতা সংগ্রামে তমলুকঃ ইতিহাস মালা।

৫) মেদিনীপুর চরিতাবিধান - মন্মথনাথ দাস।