দাঁতন-মোহনপুরের বিলুপ্তপ্রায় 'সিয়ালগিরি' সম্প্রদায়ের কথা  | Extinct 'Sialgiri' Community of Dantan-Mohanpur

দাঁতন-মোহনপুরের বিলুপ্তপ্রায় 'সিয়ালগিরি' সম্প্রদায়ের কথা | Extinct 'Sialgiri' Community of Dantan-Mohanpur

সন্তু জানা।

বস্তুত, মেদিনীপুর জেলার দাঁতন থানায় বসবাসকারি “সিয়ালগিরি” দের কথা সর্বপ্রথম জনসমক্ষে নিয়ে আসেন ব্রিটিশ সার্ভেয়ার George A. Grierson। ইনি 'Linguistic Survey of India -র পুরোধা ছিলেন। আজ থেকে ১৩০ বছর আগের কথা। সালটা ছিল ১৮৯০। ব্রিটিশের নেতৃত্বে সমগ্র ভারতবর্ষ জুড়ে তন্ন তন্ন করে সন্ধান চলছে উপমহাদেশের অসংখ্য প্রচলিত ও অপ্রচলিত ভাষার প্রকৃত হিসেব-পরিসংখ্যান। গ্রিয়ারসন সাহেব একটি খ্রিস্টধর্মীয় উপকথা 'Prodigal Son' -এর খসড়াপত্র ইংরেজি এবং অন্যান্য প্রচলিত ভাষায় লিখে ভারতবর্ষের বিভিন্ন প্রান্তে পাঠিয়ে দিলেন। 'Linguistic Survey of India -র কর্মচারীরা গ্রামে গ্রামে ঘুরে বৈচিত্র্যময় জাতি-উপজাতির মানুষের নিকট পৌঁছে তাদের ভাষায় অনুবাদ করে নিতেন এবং মিলিয়ে নিতেন। এইভাবে সহস্রাধিক ভাষায় গল্পটি অনুদিত হয়েছিল। তৎকালীন সময়ে থানার সাব-ইন্সপেক্টর অথবা জেলা কালেক্টরের মাধ্যমে অনুবাদপত্রগুলি সংগ্রহ করে গ্রিয়ারসন সাহেবের কাছে পাঠান হত। ১৮৯০ সালে একবার মেদিনীপুর জেলা কালেক্টরের পক্ষ থেকে জানান হল যে, জেলার দক্ষিণপ্রান্তে দাঁতন থানায় বসবাসকারি বেশ কিছু মানুষ বিকৃত গুজরাটি ভাষায় কথা বলছে। সবাই চমকিত হল। গ্রিয়ারসন জানালেন -এরা নাকি “সিয়ালগিরি” উপজাতি সম্প্রদায়ভুত্ত। তৎকালীন সময়ে, ১৮৬৮ সালে প্রতিষ্ঠিত দাঁতন মিড্ল-ইংলিশ স্কুলের তদারকির জন্য সরকারি বিদ্যালয়-পরিদর্শক নিযুক্ত থাকতেন। তাকে জরুরি নির্দেশ পাঠালেন মেদিনীপুর জেলা বোর্ডের সম্পাদক বাবু কৃষ্ণকিশোর আচার্য্য। অতঃপর দাঁতনের অবর-বিদ্যালয় পরিদর্শক এবং সাব-ইন্সপেক্টর অব পুলিশের মধ্যস্থতায় ও আন্তরিক প্রচেষ্টায় দাঁতন থানায় দুইজন সুস্থ ও বুদ্ধিমান “সিয়ালগিরি' যুবককে নিয়ে আসা হল। 'Prodigal Son' গল্পের অর্থ বুঝিয়ে দিতে বিস্ময়কর ভাবে গুজরাটি, মারাঠি ও রাজস্থানি ভাষা মিশ্রিত এই অদ্ভুত “সিয়ালগির' ভাষায় ওরা অনুবাদ করল - “এক মরদনা বায় দিকরা থেই। তিনহ বিচে নানহ্ দিকরা আপনু বাবানে কহে। বাব! মার হিচ মার দে।” (একজন লোকের দুটি পুত্র ছিল। তাদের মধ্যে ছোট ছেলেটি বাবাকে বলল। বাবা! আমার অংশটুকু আমাকে দিয়ে দাও ।) উল্লসিত হলেন সার্ভেয়ার গ্রিয়ারসন। ১৮৯৮ সালের জুলাই মাসে ‘Note on A dialect of Gujrati discovered in the district of Midnapore’ (Journal of the Asiatic Society of Bengal) নামক প্রবন্ধে লিখলেন - "সিয়ালগিরি” সম্প্রদায়ের ইতিবৃত্ত।

তাঁর বর্ণনা থেকেই জানতে পারি যে, উনবিংশ শতাব্দীর শেষার্ধে সমগ্র ভারতবর্ষে এদের অবস্থান ছিল কেবলমাত্র মেদিনীপুর জেলার অন্তর্গত দাঁতন থানার পাঁচটি গ্রামে যথা - নিমপুর, গোমুন্ডা (মোহনপুর), ধুকুড়দা, সাইপুর ও লালমোহনপাটনায় এবং বালেশ্বর জেলার অন্তর্গত জলেশ্বর থানার সুগো ও ধানসিমুলিয়া গ্রামে। সংখ্যায় সবমিলিয়ে ১২০ জন। বর্তমানে কেবল লালমোহন পানা বাদ দিয়ে বাকি সমস্ত গ্রামগুলির অস্তিত্ব অনুসন্ধান করতে পেরেছি। অপরাধপ্রবণ, যাযাবর গোত্রীয় “সিয়ালগিরি" সম্প্রদায় নিজস্ব ভাষাতেই মত বিনিময় করত। পূর্বে রিসলেসাহেব ও ডালটন সাহেব এই উপজাতিকে চিহিত করতে পারেননি কারণ অন্ত্যজ সাঁওতাল শ্রেণির সঙ্গে অনেকাংশে এদের মিল খুঁজে পাওয়া যায়। কিন্তু, ১৯০১ সালে ভারতের আদমসুমারি [Census og India (Vol.vi, C.A. Gait) : Lower Provinces of Bengal, 1901] অনুসারে জানতে পারা যায় যে, সমগ্র মেদিনীপুর জেলায় বসবাসকারি ১,১৮,০০০ জন সাঁওতাল শ্রেণির মানুষজন ছাড়াও ৩০০ জন পুরুষ ও ২৯৮ জন মহিলা "সিয়ালগিরি”-কে আলাদা করে চিহ্নিত করা গিয়েছিল। Bengal Census Report of 1901 (Part-I, p.435) রিপোর্টে লিখিত ছিল - “The Siyalgiris are a small community residing at Mohanpur outpost of Dantan thana. They speak dialect of Gujrati and are supposed to have migrated from the West some five of six generations age, but nothing is known regarding the precise time of settlement or reasons which led to it." দাঁতন সীমান্ত ব্যতীত বাংলা বা ওড়িশার অন্য কোন স্থানে এই জাতির অস্তিত্ব যেমন ছিল না, ঠিক তেমনই বলা যেতে পারে যে, সমগ্র ভারতবর্ষে এই জাতি কেবলমাত্র দাঁতন অঞ্চলেই বসবাস করত। “" এর রচয়িতা ও'ম্যালী সাহেবও এদেরকে "ভবঘুরে ভীল জাতি”(Wandering Bhil tribe)-র বংশধর হিসাবে উল্লেখ করেছেন। "সিয়ালগিরি” মূলত মধ্যভারতের রাজস্থান, গুজরাট ও মহারাস্ট্রের সীমানাবর্তী অঞ্চলে বসবাসকারি 'ভীল' জাতির একটি শাখা। এরা ভোঁসলে বর্গীদের রাজত্বকালে মারাঠাদের সহিত ওড়িশা ও দক্ষিণ মেদিনীপুরে সুবর্ণরেখা সীমানায় উপস্থিত হয়েছিল ১৭৫০ সালের সময়কালে । “মেদিনীপুরের ইতিহাস" প্রণেতা যোগেশচন্দ্র বসু লিখেছেন “উহারা (সিয়ালগিরি) মহারাষ্ট্রীয় দিগের রসদবাহী সৈন্যরুপে এদেশে প্রথম আসিয়াছিল।” শক্তিশালী মারাঠাদের পাইক, তীরন্দাজ হয়ে বা তাদের বিপুল অস্ত্রশস্ত্রের বাহকরুপে এই অন্তজ্যশ্রেণীর সুঠাম, কর্মঠ ভীল জাতির মানুষেরা এসেছিল এদেশে ঠিকই। কিন্তু রাজকীয় অভিযানের সমাপ্তি-পর্বে অর্থহীন, তুচ্ছ বর্জ্য পদার্থের মত এদেরকে ফেলে রেখে রাজা ফিরে গেছেন নিজভূমে। ফলত, জীবিকা নির্বাহের উদ্দেশ্যে বাঁশের জিনিস তৈরী, মাছ বিক্রয়, চাষাবাদে অংশ নেওয়া ছাড়াও সাপকাটি মানুষদিগকে জড়িবুটি উষধ দিয়ে চিকিৎসা করত ওরা।

দাঁতন-মোহনপুরের বিলুপ্তপ্রায় 'সিয়ালগিরি' সম্প্রদায়ের কথা  | Extinct 'Sialgiri' Community of Dantan-Mohanpur

স্ব-ঘোষিত হিন্দু ধর্মাবলম্বী “সিয়ালগিরি" সম্প্রদায়ের পূজা-অর্চনার জন্য নির্দিষ্ট কোন ব্রাহ্মণ ছিল না। নিজেদের মধ্যে থেকেই একজন মানুষ দেবী-মায়ের আরাধনায় পৌরহিত্য করত। এদের বলা হত 'পরামানিক'। তবে নিজেদের হিন্দু দাবী করলেও মৃত্যুর পরে শবদেহ দাহ করার বদলে এরা কবর দিত। সাধারণভাবে নিম্নমেধা ও ক্ষীণ স্মৃতিশক্তির অধিকারী হওয়ায় এই উপজাতির মানুষজনের মধ্যে থেকে কোন প্রচলিত গান, শ্লোক বা গল্পকথা উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। এমনকি এরা নিজেরাই জানে না যে ভারতবর্ষের অন্য কোনও প্রান্তে 'সিয়ালগিরি' সম্প্রদায়ের অন্য কোনও বিভাগের অস্তিত্ব আছে কিনা। গ্রিয়ারসন সাহেবের মতানুসারে উনবিংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধ থেকেই এরা নিজেদের পিতৃপদবী ত্যাগ করে নিম্নবর্গীয় বাঙালী ওড়িয়া পদবী যথা - 'পাত্র বা পাতর', 'দাস', 'জানা' প্রভৃতি গ্রহণ করেছিল। পার্শ্ববর্তী হিন্দুসমাজের সহিত বিবাহসূত্রে আবদ্ধ হওয়া ছাড়াও সমাজে মান্যতা পাওয়ার লক্ষ্য নিয়েই এরা পদবী পরিবর্তন করে শবর র্শ্রেণিতে পরিবর্তিত হয়েছে। তবে বর্তমানে 'রাম' ও 'হড়' নামে পদবীর খোঁজ মিলেছে যার অস্তিত্ব বাঙালী ও ওড়িয়া সমাজে কোনভাবেই থাকতে পারে না। আজকের দিনে সাধারণ দরিদ্র বাঙালী কৃষকের থেকে এদেরকে কোনভাবেই আলাদা করা যায় না। এদের প্রতি পরিবার পিছু ৫-৬ জন সদস্য থাকে। ব্যক্তিগত সম্পত্তি বলতে ১-২ বিঘা জমি। ১৮৯৮ থেকে ২০১৮ এই ১২০ বছরে 'সিয়ালগিরি' মানুষের সংখ্যাও বৃদ্ধি পেয়েছে যথেষ্টহারে। সোলপাট্টার ভজহরি পাত্র (৬০), ত্রিলোচন পাত্র (৬০), নিমপুরের বংশী জানা (৫৮), গোমুন্ডার মহাদেব রাম (৬৫) প্রমুখের সাথে আলাপচারিতায় জানা গেল যে, পার্শ্ববর্তী ওড়িশা রাজ্য ও দক্ষিণ-পশ্চিম বাংলার সীমানায় দাঁতন, মোহনপুর ও জলেশ্বর থানার বেশ কয়েকটি গ্রামে এই সম্প্রদায়ের মানুষের সংখ্যা এখন প্রায় ৬৮০০ জন। গ্রাম অনুসারে মাথাপিছু জনসংখ্যা নিন্নে উল্লেখিত হল -

১. নিমপুর » ৬০০ জন (প্রায়) » দাঁতন থানা » বাংলা

২. গোমুন্ডা » ৫০০ জন (প্রায়) » মোহনপুর থানা » বাংলা

৩. সোলপাট্টা » ৫০০ জন (প্রায়) » দাঁতন থানা » বাংলা

৪. পাঁচকনিয়া » ৫০০ জন (প্রায়) » দাঁতন থানা » বাংলা

৫. সাইপুর » ২৫০ জন (প্রায়) » দাঁতন থানা » বাংলা

৬. ধুকুড়দা » ২৫০ জন (প্রায়) » দাঁতন থানা » বাংলা

৭. সিংগাস » ৩০০ জন (প্রায়) » মোহনপুর থানা » বাংলা (সিয়ালসাই)

৮. সুগো » ২৫০ জন (প্রায়) » জলেশ্বর থানা » ওড়িশা

৯. ধানসিমুলিয়া » ৩০০ জন (প্রায়) » জলেশ্বর থানা » ওড়িশা

১০. কল্যাণপুর » ৩০০ জন (প্রায়) » জলেশ্বর থানা » ওড়িশা

১১. মানিকপুরা » ৫০০ জন (প্রায়) » বালিয়াপাল থানা » ওড়িশা

১২. কীটঘা » ৪০০ জন (প্রায়) » বালিয়াপাল থানা » ওড়িশা

১৩. উঝড়া » ৩০০ জন (প্রায়) » বালিয়াপাল থানা » ওড়িশা

১৪. পাঁউিসকুলী ২০০ জন (প্রায়) » বালিয়াপাল থানা » ওড়িশা

১৫. মুগপাল » ২০০ জন (প্রায়) » বালিয়াপাল থানা » ওড়িশা

১৬. পূর্ব যাদবচক » ২৫০ জন (প্রায়) » মোহনপুর থানা » বাংলা

১৭. মহাগোপ/ » ২৫০ জন (প্রায়) » থানাছক, কমরদী » ওড়িশা

রামচন্দ্রপুর/ধুপসাই

মজার ব্যাপার হল, সমগ্র ভারতর্ষে বর্তমানে এই সম্প্রদায়ের মোট জনসংখ্যাও আনুমানিক ৬৮০০ জনই (Census Report: 2011)

বর্তমানে এরা বাঙালী ও ওড়িশা রীতিনীতি মেনেই ধর্মীয় জীবন অতিবাহিত করেন। শীতলা, ভগবতী, মনসাদেবী আরাধনাকালে নিজ সম্প্রদায়ের একজন মানুষ পুরোহিতের ভূমিকা পালন করলেও মাঝেমধ্যে বাঙালী বা উড়ে ব্রাহ্মণও তাদের সাহায্য করেন। শিক্ষাক্ষেত্রে একবিংশ শতাব্দীর আলোকদ্যুতির মাঝেও গ্রামপ্রতি মাত্র ১৫-২০% ছেলে-মেয়েরাই পুঁথিগত শিক্ষার আলোয় উজ্জ্বল হতে পেরেছে। চাকুরিজীবীর সংখ্যা গ্রামপ্রতি ০.৫০% মাত্র। অন্যদিকে শেয়াল বা অন্য কোনও বন্য জীবজন্তু শিকার করা বন্ধ হয়ে গেছে বহুদিন আগে। কিন্তু এখনও এরা পাখী শিকার করে ভক্ষণ করে। বেতের কাঠি, সুতো ও বঁড়শী ব্যবহার করে 'সিয়ালগিরি' মানুষজন 'ফাঁস' নামক একটি বিশেষ ফাঁদ-খাঁচা তৈরি করেন। মন্দিরের মতো দেখতে এই খাঁচার ভেতরে মাছ বা অন্য টোপ ঝুলিয়ে রাখা হয়। বক, বনকুয়া, ডাহুক, জলহাঁস প্রভৃতি পাখি সেই টোপ ধরতে এলে মন্দিরের ভেতর মাথা গলিয়ে দেয়। তখনই সুতলিতে টান পড়ে। গলায় প্যাঁচ লেগে শিকার হাতেনাতে ধরা পড়ে। এছাড়াও একটি দীর্ঘ সুতলিকে মাঞ্জা দিয়ে তার মধ্যে নির্দিষ্ট ব্যবধান অন্তর ২০-৩০ টি বঁড়শী ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। পুকুরে বিছিয়ে রাখলে এই 'সুতলি'-র মাধ্যমে প্রচুর মাছ ও কচ্ছপ ধরা যায়।

বর্তমানে এই সম্প্রদায়ের কোন মহিলা অবাঙালী কায়দায় পোশাক না পরলেও জানা গেল, এঁদের শৈশবকালে দিদা-ঠাকুমারা গুজরাটি বা রাজস্থানি কায়দায় শাড়ি পরতেন। ধাতু নির্মিত গহনাও পরতেন। বর্তমানে মহিলারা বাঙালী রীতি অনুসারে শাঁখা-পলা পরেন। তবে বেশ কিছু গ্রামে মিশ্র-ধাতু নির্মিত ধূসর রঙের খাঁজকাটা বালা ও নক্সা করা নুপুর পরিহিত মহিলার দেখাও পেয়েছি। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উদ্ধার করা গেল যে, স্বজাতবিরোধী হলেও মাত্র দুই প্রজন্ম ধরে বর্তমানে মৃত্যু পরবর্তী শবদেহ কবর দেওয়ার বদলে এরা শ্মশানে চিতা সাজিয়ে দাহ করে আসছে। ভাষাগত ক্ষেত্রে কেউ কেউ শুদ্ধ বাংলা বলতে পারলেও বেশিরভাগই বাংলা-ওড়িয়া মিশ্রিত সুবর্ণরৈখিক ভাষায় মনের ভাব ব্যক্ত করেন। গ্রাম প্রতি ২-৩ জন ববীয়ান মানুষজনই কেবলমাত্র বিলুপ্তপ্রায় “সিয়ালগির” ভাষায় কথা বলতে পারেন। তাদের আক্ষেপ, নতুন প্রজন্ম পূর্বপুরুষের স্মৃতিবিজড়িত ভাষাটি সংরক্ষণ করার ক্ষেত্রে শতযোজন পিছিয়ে। ফলত, আর একটি প্রজন্ম পরেই হয়ত এই ক্রমবর্ধমান অনাগ্রহ ও অবহেলায় শতাব্দী প্রাচীন ভারতীয় ভাষাটি বিলীন হতে চলেছে এই সুবর্ণরেখার তীরে, ঐতিহাসিক দাঁতন-সীমানার প্রাচীন মৃত্তিকার রন্ধ্রে রন্ধ্রে - কথাটা ভাবতে ভাবতে শিউরে উঠলাম। তখনই ভজহরিবাবু চিৎকার করে উঠলেন - “ধান্ড এক লাসি থায়, ইনহে ঝালি লে আও” (একটি গরু ধান খেয়ে যাচ্ছে গো, একে জলদি ধরে নিয়ে এসো)। আহা, পুঁথিপাঠে নাই বা থাক, এভাবেই জীবনের সুরে, যাপনচিত্রে বেঁচে থাকুক পিতৃপুরুষের পরিচয়। এক টুকরো মাতৃভাষার স্বাদ।


midnapore.in

(Published on 15.06.2020)
সন্তু জানা, Santu Jana

সন্তু জানা - জন্ম: রাঙামাটি, মেদিনীপুর। বংশ পরম্পরায় দাঁতনের ভূমিপুত্র। স্থানিক ইতিহাস ও সংস্কৃতি চর্চায় সদা নিমগ্ন ক্ষেত্র-সমীক্ষক ও প্রাবন্ধিক। শিক্ষকতার পেশায় নিযুক্ত। আঞ্চলিক ইতিহাস, লোকসংস্কৃতি ও সাহিত্য বিষয়ক 'দণ্ডভুক্তি একাডেমি' -র প্রতিষ্ঠাতা। 'সেকালের দাঁতন', 'দাঁতনপঞ্জী' প্রভৃতি গ্রন্থের রচয়িতা। বর্তমানে 'দাঁতন রাজ্-এস্টেট' তথা মনোহরপুরের ঐতিহাসিক 'বীরবর' জমিদার বংশের শতাব্দী প্রাচীন অনালোকিত ইতিহাস প্রসঙ্গে অনুধ্যায়ী গবেষণায় মগ্ন। সন্তু জানা 'মিডনাপুর-ডট-ইন' -এর আজীবন সদস্য।