চন্দ্র কোণায় বাড়িটা আমাদের পূণ্যভূমি। কতো শতো বড়ো মানুষের পদধূলিতে এ আমার মহা তীর্থ।
চন্দ্রকোনার মুকুটহীন সম্রাট শ্রী সত্য ঘোষাল এর স্মৃতিচারণায় দৌহিত্রী।
সব দিক দিয়ে পূর্ণাঙ্গ মানুষ তুমি!! মনে প্রাণে মেনে চলেছো..." মোর নাম এই বলে খ্যাত হোক, আমি তোমাদের ই লোক" । অভিভাবক হীন চন্দ্র কোণায় তুমি ফিরে এসো বারবার। তবে, মন প্রান দিয়ে চাই , তোমার ব্যাপ্তি ছড়িয়ে পড়ুক দিকে দিগন্তরে।
বিধায়ক ভট্টাচার্যের লেখা 'খুদা ' নাটকে তোমার অভিনয় ভোলে নি চন্দ্র কোণা। তুমি বেঁচে আছো তোমার অভিনীত 'সিরাজদদৌলা' আর ' শাহজাহান ' আর রক্তকরবী র ' রাজা' র মাঝে তুমি থেকে গেছো পদাতিক কবি শ্রী সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের 'আবার ডাক বাঙলার ডাকে ' র মাঝে। ......কবি সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের পদধূলি রঞ্জিত আমাদের বাড়ি। গ্রাম গ্রামান্তর ঘুরে বেড়ানোর মাঝে পদাতিক কবি র সঙ্গী আমার বাবাও , যার উল্লেখ কবি র ব ই তে। এবার তাঁর সঙ্গী "ছোট সরোজ"।
স্বয়ং ডঃ বিধান চন্দ্র রায়ের স্নেহ ও তুমি তোমার যুবক বয়সেই পেয়েছিলে। কোনো এক সময় চিকিৎসা র জন্য ওনার কাছে তোমাকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। উনি তোমায় স্নেহের সুরেই বলেছিলেন, “খুব তো মঞ্চে মঞ্চে আমাদের বিরুদ্ধে বক্তব্য দেওয়া হয়!! তা শরীর টা যে এই বয়সে শেষ হয়ে যাচ্ছে, সেদিকে খেয়াল রাখো!!” এ্যাতো বড়ো সৌজন্য তো আজকের সমাজে বিরল!!
এ সৌজন্যে র শিক্ষা তুমি জীবনে গ্রহণ করেছো। রঙ ভেদে রাজনীতি তোমাকে করতে দেখি নি। যাঁরা এসেছেন , সবাই ছিলেন তোমার কাছে স্বাগত!
রক্তকরবী নাটক আমরা মঞ্চস্থ করি। জীবনে নিতে পেরেছি কয়জন? কিন্তু পুঁজিবাদ আর মানবতাবাদের দ্বন্দ্ব তোমাকে ভাবিয়েছে সবদিন। স্বাধীনতা, ভালোবাসা আর প্রকৃতি র আহ্বান তুমি কখনো উপেক্ষা করো নি! তাই মন প্রাণ জুড়ে তোমার ' নন্দিনী ' ।
তোমার সাথে সেই 'ডাকঘর '!! অমলে র বাইরে বেরোনোর আকুতি!! সেই যে লাইন টা ' 'এ সুর ও কি শেখবার সুর ! ' তোমার শিক্ষা দান সেখানে ই ! জীবনে কাউকে ছোট করে পিছনের সারিতে ঠেলে সরিয়ে দাও নি তুমি!
চন্দ্রকোনার মুকুটহীন সম্রাট শ্রী সত্য ঘোষাল এর স্মৃতিচারণায় দৌহিত্রী।
তাই তো সমাজে যেখানে বঞ্চনা আর বঞ্চিত, যেখানে শোষণ আর শোষিত , যেখানে অত্যাচার আর অত্যাচারিত , যেখানে অবহেলা আর অবহেলিত সেখানেই সত্য ঘোষাল।
মেদিনীপুর লোকসভার দীর্ঘদিনের সি.পি.আই সাংসদ, শ্রী প্রবোধ চন্দ্র পাণ্ডা প্রায়শ ই বিভিন্ন মিটিং এ বলেছেন, ওনার রাজনৈতিক জীবনে আসা শুধু মাত্র তোমার বক্তৃতা শুনে।
শ্রদ্ধেয় কবি, তরুণ সান্যাল , ড: ফুল রেণু গুহ, ইলা মিত্র, ডঃ দিলীপ সিং হ বিভিন্ন সময়ে চন্দ্র কোণায় এসেছেন , তোমার স্মৃতি চারণা করেছেন, বারবার উঠে এসেছে তোমার বুদ্ধিদীপ্ত প্রকাশ তোমার রচনায়, তোমার বক্তৃতায় , তোমার অন্যান্য সৃষ্টিতে।
রবীন্দ্রনাথের এই কবিতাটি তোমার খুব প্রিয় ছিল, ' উদয়াচলের সে তীর্থ পথে আমি চলেছি একেলা সন্ধ্যার অনুগামী ....' একা তুমি ন ও। তোমাকে ছেড়ে আমরা একা।
তোমার কর্ম যজ্ঞে তুমি অমর। সম্প্রতি তোমার জন্মশতবর্ষ পালনে একটা কথা বারবার মনে এসেছে, আরো শতবর্ষেও তুমি এমন ই ভাস্বর হয়ে থেকো।
চন্দ্র কোণায় তোমার বাসভবন সংলগ্ন সমাধিতে স্মৃতি বয়ে বেড়াই আমরা যেখানে তোমার প্রিয় কবিতার দুটি পঙতি আছে...." যখন রব না আমি মর্ত্যকায়ায়, তখন স্মরিতে যদি হয় মন তবে তুমি এসো হেথা নিভৃত ছায়ায় " ।